দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৪৭ পিএম
আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩০ হাজার ৪৮২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ এক হাজার ৬৮৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৪ হাজার ২৪৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা এবং একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন প্রকল্প ১৪টি, সংশোধিত প্রকল্প ৫টি ও মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প ৩টি।
এতে উপস্থিত ছিলেন, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, স্বরাষ্ট্র এবং কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.), শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ অন্য উপদেষ্টারা।
ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড।
গতকাল এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত (একনেক) বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আওতাভুক্ত এই প্রকল্পটি চট্টগ্রাম জেলার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পতেঙ্গা এলাকায় বাস্তবায়িত হবে।
প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৬৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। যার মধ্যে ২১ হাজার ২৭৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা সরকারি ঋণ হিসেবে আসবে এবং ১৪ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ইআরএলের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে নভেম্বর ২০৩০ পর্যন্ত।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য হলো জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুসংহত করা, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন এবং পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের উচ্চ নির্ভরতা হ্রাস করা।
প্রকল্পের আওতায় সাইট প্রস্তুতি, বিস্তারিত প্রকৌশল নকশা, ক্রয় ও নির্মাণসহ সিভিল ও মেকানিক্যাল কাজের বাস্তবায়ন করা হবে। সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০টি প্রসেসিং ইউনিট এবং ১৮টি ইউটিলিটি ও অফ-সাইট ইউনিট স্থাপন করা হবে।
এছাড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) থেকে গ্যাস সংযোগ, ড্রেনেজ অবকাঠামো নির্মাণ এবং কম্পিউটার, অফিস সরঞ্জামসহ অন্যান্য সহায়ক সামগ্রী সংগ্রহ করা হবে।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের বর্তমান অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সক্ষমতা বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে ইআরএল দেশের মোট পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ পূরণ করতে পারে, বাকি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। ফলে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা আরও জানান, ইউরো-৫ জ্বালানি মানদণ্ড চালুর ফলে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মানসংক্রান্ত শর্ত আরও কঠোর হয়েছে। প্রস্তাবিত আধুনিকায়িত রিফাইনারিতে ইউরো-৫ মানের পরিবেশবান্ধব গ্যাসোলিন ও ডিজেল উৎপাদন করা হবে এবং ইআরএলে বর্তমানে উৎপাদিত ডিজেল, মোটর স্পিরিট ও অকটেনকে ইউরো-৫ মানে উন্নীত করা হবে।
এরই মধ্যে বিপিসি ‘ডাবল পাইপলাইনসহ সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) স্থাপন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যার মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল পরিবহন সম্ভব হবে। এতে সম্প্রসারিত রিফাইনারির জন্য প্রয়োজনীয় বড় পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিচালনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিপিসি বছরে ৩০ লাখ মেট্রিক টন পরিশোধন সক্ষমতা নিয়ে ইআরএল আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ, পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে বছরে ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সম্ভব হবে এবং জাতীয় চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ করা যাবে। এর ফলে জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়বে, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো—
একনেক সভায় এদিন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়ের নতুন প্রকল্প হল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এক হাজার ২৯৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন’ প্রকল্প। এছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘কর্ণফুলী টানেল (আনোয়ারা) হতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের গাছবাড়িয়া পর্যন্ত সংযোগ সড়ক (জেড-১০৪০) উন্নয়ন কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
এছাড়া ‘দিনাজপুর সড়ক বিভাগাধীন হিলি (স্থলবন্দর)-ডুগডুগি ঘোড়াঘাট জাতীয় মহাসড়ক (এন-৫২১) যথাযথ মানে উন্নীতকরণসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিদ্যমান সরু/জরাজীর্ণ কালভার্ট পুনঃনির্মাণ এবং বাজার অংশে রিজিড পেভমেন্ট ও ড্রেন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ ও ‘সাপোর্ট টু ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ এবং উভয়পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প একনেকের অনুমোদন পেয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য আটটি ১৫ তলা ভবনে ৬৭২টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)’, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা ওয়াসা প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা একাডেমি স্থাপন’ প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)’, ‘জলবায়ু সহনশীল জীবনমান উন্নয়ন ক্লাইমেট রেজিলেন্স অ্যান্ড লাইভলিহুড এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’, পটুয়াখালী জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’, ‘সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পও সভায় অনুমোদন পায়।
এছাড়া অনুমোদন পায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘মোংলা কমান্ডার ফ্লোটিলা ওয়েস্ট (কমফ্লোট ওয়েস্ট) এর অবকাঠামো উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)’ ও ‘সাভারে আর্মি ইনস্টিটিউট অফ ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ প্রকল্প।
তালিকায় রয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘দু্স্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পুনঃনির্মাণ কোনাবাড়ি, গাজীপুর (প্রথম সংশোধিত)’, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড নার্সি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন’ ও ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এর উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প ।
এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কর্ণফুলী এবং সংযুক্ত নদীসমূহের (কাচালং, রাইখিয়ং ও শলকনদী) টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’, ‘গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন’, ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
‘ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (কম্পোনেন্ট-১)’, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘বগুড়া কৃষি অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন’ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ‘দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও সুসংহতকরণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team